No Name | Times News 24 | Fast Online News Portal | সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এ এম
দিনাজপুর বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলার চারটি কলেজ থেকে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এই কলেজগুলো থেকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি না হলেও, শতভাগ ফেল এককথায় ‘শূন্য পাসের’ ঘটনা গোটা জেলা ও শিক্ষা মহলে আলোড়ন তুলেছে।
সাধারণভাবে দেখা যায়, কোনো কলেজে একাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিলে অন্তত কেউ না কেউ উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু এবারে চারটি কলেজে শতভাগ পরীক্ষার্থী ব্যর্থ হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা ব্যবস্থার মান, পাঠদান পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের ঘাটতি, পাঠদানে অনিয়মিততা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার ঘাটতি সমস্ত কিছু মিলেই এই বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া, অনেক কলেজে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা পরিবেশও অনুপস্থিত, যা দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত থেকে গেছে।
এ অবস্থায় অভিভাবকদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। পরীক্ষার সময়সীমা, সিলেবাস কাভার, গাইড ব্যবহার বা কোচিং নির্ভরতা নয়, বরং নিয়মিত পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়ন ও মানসম্মত প্রস্তুতির দিকেই মনোযোগ বাড়ানো জরুরি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মনোসংযোগ, সময় ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ঠিক রাখার দিকেও নজর দেওয়া দরকার।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র ফল বিশ্লেষণ করলেই হবে না, বরং কেন এমন অবস্থা তৈরি হলো তার গভীর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। জেলার শিক্ষা অফিস, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে একযোগে কাজ করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে তদারকি বাড়ানো, শিক্ষক সংকট নিরসন, পাঠদানের নিয়মিততা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত গাইডলাইন দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
একইসঙ্গে বোর্ড পর্যায়ে স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও নিয়মিত পরিদর্শন চালু রাখা জরুরি, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের “শূন্য পাস” অবস্থা আর না দেখা যায়। শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যোগ নয়, স্থানীয় পর্যায়েও সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি, যৌথ সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।
এই ফলাফল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেই শিক্ষা হয় না; দরকার মানসম্পন্ন শিক্ষা, দায়বদ্ধতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ। দিনাজপুর জেলার এই ব্যর্থতা যেন গোটা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায় এটাই প্রত্যাশা।
Photo Credit: Jagonews24.com